লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার সম্পত্তি নয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলেরও নয়। বরং এই দিবসটি দেশের সব দল, মত ও পথের মানুষের। এমনকি বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল সবার জন্যই এই দিবসের তাৎপর্য সমান, তারা পালন করুক বা না করুক।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, “মুজিবনগর সরকার গঠিত না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। এটি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির একার নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি সত্য, কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি করতে পারি নাই। স্বাধীনতা কোনো দলের নয়, এটি সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সবার হওয়া সত্ত্বেও আমরা সর্বক্ষেত্রে এটিকে সার্বজনীনভাবে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছি।
নিজের দল সম্পর্কে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করেছি মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা বা আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল, মওলানা ভাসানীর দল।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন যা বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানী গড়ে তুলেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ৫২-র ভাষা আন্দোলন না হলে ৬৬-র ৬ দফা হতো না, আর ৬ দফা না হলে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হতো না। ১১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমেই শেখ মুজিব আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বলেই পাকিস্তানিরা তাঁকে ফাঁসি দিতে পারেনি। এই ধারাবাহিকতাই ৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পর দেখলাম, তাঁকে আমার খুব ভালো লেগেছে। গতকাল তাঁর বক্তব্য আমি প্রথম শুনলাম। তাঁর বক্তব্যে শালীনতা ও গভীরতা আছে এবং একটি জাতীয় ঐক্যের আকাঙ্ক্ষা আছে। এই জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্য জাতীয় ঐক্যের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে মুজিবনগর দিবসকে দলীয় গণ্ডির বাইরে নিয়ে আসার আহ্বান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা রাজনৈতিক দূরত্বের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
| বিষয় | প্রধান পয়েন্ট |
| মুজিবনগর দিবস | এটি আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা কোনো একক দলের নয়, বরং সবার। |
| মুক্তিযুদ্ধ | দেশের সব দলের মানুষের অধিকার আছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে। |
| তারেক রহমান | তাঁর বক্তব্যে শালীনতা ও জাতীয় ঐক্যের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। |
| আদর্শ | বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও চেতনার সঙ্গে দলের কোনো দূরত্ব নেই। |
মাঠ পর্যায়ের সংবাদ: সখীপুর প্রতিনিধি ও নিজস্ব সংবাদদাতা।
সংশ্লিষ্ট নেতার বক্তব্য: ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এর আলোচনা সভার অডিও/ভিডিও রেকর্ড।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |